পোল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমায় রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের কাছাকাছি একটি পরিকল্পিত বিমান মহড়া পরিচালনা করেছে ন্যাটো। পোলিশ সম্প্রচারমাধ্যম টিভিপি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের যুদ্ধবিমানগুলো অংশ নিয়েছে। এছাড়া ন্যাটোর ই-৩এ সেন্ট্রি আওয়াশ (AWACS) নজরদারি বিমান, আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইএ-৩৭বি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানও মহড়ায় যুক্ত ছিল। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী বিমানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৫০টির মধ্যে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পোল্যান্ডের অপারেশনাল কমান্ড জানিয়েছে, ন্যাটোর সমন্বয়ে পরিচালিত এই মহড়াটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং রাশিয়ার বিমান বাহিনীর কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। জোটের সদস্য দেশগুলোর বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথ আকাশ অভিযানের কৌশল অনুশীলনের উদ্দেশ্যেই মূলত এই মহড়া চালানো হয়।
এর আগে জার্মানির বিল্ড সংবাদপত্রে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার জবাব দেওয়ার জন্য ন্যাটোর একটি 'ল্যান্ড ওয়ারফাইটিং কনসেপ্ট' বা স্থল যুদ্ধের কৌশলের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুওয়ালকি গ্যাপ বা সুওয়ালকি করিডোর এলাকা ঘিরে ন্যাটো সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক মহড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী এবং কালিনিনগ্রাদ ও বেলারুশের সংযোগকারী এই সরু ভূখণ্ডটি ন্যাটোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে গত মে মাসে এই এলাকায় মিত্রবাহিনী 'অ্যাম্বার শক ২৬' নামে সামরিক মহড়া সম্পন্ন করেছিল।

