দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাকে এই সম্মানে ভূষিত করে। কমিটি পিল্লাইয়ের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি ও প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত করেছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের জন্য অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পরিবেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণকারী পিল্লাই তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বর্ণবাদী বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। নোবেল কমিটি বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তার নেওয়া যুগান্তকারী আইনি পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করেছে। এছাড়া গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অ্যাডহক বিচারক হিসেবে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর গণহত্যার অভিযোগের শুনানিতেও তিনি অংশ নিয়েছেন।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের তদন্তে পিল্লাইয়ের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি কমিটিতে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি স্পষ্টভাবেই ইসরায়েলকে গাজায় গণহত্যার জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে ইসরায়েল গাজায় চারটি জেনোসাইডাল কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই গণহত্যার উসকানি দিয়েছেন বলেও তার নেতৃত্বাধীন কমিশন খুঁজে পায়।
নোবেল কমিটির ভাষ্যমতে, পিল্লাইয়ের কর্মজীবন প্রমাণ করে যে সংঘাত নিরসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা অপরিহার্য। কমিটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, শান্তি বজায় রাখার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য এবং এই পুরস্কারের মাধ্যমে তারা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে চায় যে, ন্যায়বিচার ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব।

