বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ শুরু করার সময় প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান অথবা তাদের আসন খালি রাখেন। গাজা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে এই গণ-প্রতিবাদ প্রদর্শিত হয়।
নেতানিয়াহু যখন বক্তৃতার মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান, তখন ডজন ডজন প্রতিনিধিদল একসাথে হল ত্যাগ করেন। কিছু দেশ তাদের একমাত্র প্রতিনিধি বা কনিষ্ঠ কূটনীতিককে রেখে সভাকক্ষ ত্যাগ করে, আবার অনেক দেশ এই ভাষণ চলাকালীন কোনো প্রতিনিধিই পাঠায়নি। আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, তিউনিসিয়া, সিরিয়া, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, মিশর, ইরাক, সৌদি আরব, জর্ডান, ইরান, কাতার, লেবানন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কুয়েতের প্রতিনিধিরা এই প্রতিবাদে অংশ নেন।
এছাড়া স্পেন, ব্রাজিল, পেরু, কিউবা, নাইজেরিয়া, ঘানা, লিবিয়া, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ওমান, নাইজার, মাদাগাস্কার, বতসোয়ানা, বাহামাস, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা এবং কেপ ভার্দের প্রতিনিধিরাও সভাকক্ষ ত্যাগ করেছেন অথবা অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা, অধিকৃত পশ্চিম তীরে তাদের নীতি এবং লেবানন ও সিরিয়ায় হামলার বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক সমালোচনার অংশ হিসেবে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে, যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে নভেম্বর ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
তবে সব দেশ এই ওয়াকআউটে অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, ইউক্রেন, চেক প্রজাতন্ত্র এবং গ্রিসের প্রতিনিধিরা নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালীন সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, নরওয়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও হলে অবস্থান করেন। চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন একজন কূটনীতিক। এছাড়া আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের প্রতিনিধিরাও সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, কানাডা, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, আইসল্যান্ড, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, মেক্সিকো, কেনিয়া এবং এল সালভাদরের প্রতিনিধিরাও ভাষণের সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে এই গণ-প্রস্থানের ফলে নেতানিয়াহুর পুরো ভাষণজুড়ে সাধারণ পরিষদের সভাকক্ষের বড় একটি অংশ খালি দেখা গেছে।

