নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ২৬ আগস্ট আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চীন ও তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত রাসুয়া জেলার ভোটে কোশি নদীতে এই বিপর্যয় ঘটে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢল ও কাদা মাটি মুহূর্তের মধ্যে নদী তীরবর্তী জনপদগুলোকে গ্রাস করে নিচ্ছে। বন্যায় রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অন্তত ৩৮৪ জন ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনিল শর্মা জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৪৭ জন আমেরিকান, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ান, ৩৩ জন ব্রিটিশ এবং ২৪ জন কানাডিয়ান নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ অন্যান্য পর্যটকদের জাতীয়তা এবং তাদের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও নেপালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকানদের বিষয়টি অবগত রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, বলেন, নদী থেকে কাদার বিশাল স্রোত সরাসরি তাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে। তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলেও কাদার তোড়ে তার স্ত্রী ভেসে যান। কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তার স্ত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস জানিয়েছে, নেপাল রেড ক্রস দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে ত্রাণসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়কেন্দ্রের সরঞ্জাম এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান শুরু করেছে। নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউডেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
