নেপালের হিমালয় অঞ্চল দিয়ে ২৬ আগস্ট ৬০ মাইলেরও বেশি পথ জুড়ে বয়ে যাওয়া কাদা, পাথর এবং ধ্বংসাবশেষের এক বিশাল স্রোত গবেষক ও স্থানীয়দের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের পর্বত, হিমবাহ এবং জলপথ নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, এই বন্যার ভয়াবহতা ও শক্তি প্রায় অকল্পনীয়। কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ আর্কটিক অ্যান্ড আল্পাইন রিসার্চের বিজ্ঞানী অল্টন বায়ার্স জানান, তার ৩০ বছরের গবেষণায় এটি অন্যতম বৃহত্তম ঘটনা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ১,৫০০ জন এখনো নিখোঁজ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে বহু আমেরিকানও রয়েছেন। বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, হিমবাহ ধসের কারণেই এই ধ্বংসাত্মক কাদা ও পাথরের স্রোত তৈরি হয়েছে, যা অবিশ্বাস্য গতিতে ঘরবাড়ি, গাড়ি ও মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের জেফ্রি কার্গেল এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দলের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, তিব্বত সীমান্তের কাছে নেপালের লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছাকাছি হিমবাহ ও পাথরের দুটি বড় উৎস থেকে এই ধসের সূত্রপাত। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮:৩৭ মিনিটে একটি ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা আসলে একটি ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের ঘটনা ছিল। এর ফলে আনুমানিক ১৩ মিলিয়ন ঘন গজ বা তার চেয়েও বেশি পাথর ও বরফ ঘণ্টায় ১৮৬ মাইলেরও বেশি গতিতে নিচে নেমে আসে।
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যান ম্যাকগ্রা জানান, ধসের সময় বরফ গলে গিয়ে বন্যার প্রধান জলের উৎস হিসেবে কাজ করেছে। বায়ার্সের মতে, এই প্রবাহটি অনেকটা সিমেন্টের মিশ্রণের মতো ছিল, যা বড় বড় পাথরের খণ্ড নিয়ে নিচে নেমে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে ভোটে কোশি নদীতে জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ত্রিশূলি নদীতেও মাত্র ৩০ মিনিটে জলস্তর ২৭ ফুটের বেশি বৃদ্ধি পায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এই ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র এখনই নিশ্চিত করা না গেলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হিমালয়সহ বিশ্বের উচ্চ পর্বত অঞ্চলগুলোতে উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলন এবং বন্যার মতো ঘটনা বাড়ছে। বায়ার্স মনে করছেন, উচ্চ উচ্চতায় পারমাফ্রস্ট বা স্থায়ী বরফ গলে যাওয়ার সাথে এই ধসের সম্পর্ক থাকতে পারে। নেপালে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের সহায়তার জন্য মার্কিন দূতাবাস জরুরি হটলাইন চালু করেছে।

