কে জিতবে সিরিজ আর কার দখলে যাবে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান— দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার নিউল্যান্ডস টেস্টটি এই দুটি প্রশ্নের ফয়সালা করার পথেই রয়েছে। ম্যাচের প্রথম আড়াই দিন রান তোলার পক্ষে কিছুটা সহজ থাকলেও এখন ক্রমেই টার্ন পেতে শুরু করেছে পিচ। উইকেটের ওপর গুঁড়ো ধুলো ওড়ায় স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ম্যাচের বাকি দুই দিনে স্পিনারদের ভূমিকাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে নির্ণায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার অফস্পিনার নাথান লায়ন ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নিয়েছেন। আরেক পেসার মিচেল স্টার্কের তৈরি করা ফুটমার্ককে কাজে লাগিয়ে লায়ন যেভাবে আক্রমণ শানাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রোটিয়া শিবির পুরোপুরি সতর্ক। অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ১০৪ রানে ৪ উইকেট নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার অফস্পিনার সাইমন হারমারও বুঝতে পারছেন, ম্যাচের শেষভাগে তাকে বিশাল দায়িত্ব সামলাতে হবে।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হারমার বলেন, প্রথম আড়াই দিনের তুলনায় সামনে স্পিনের প্রভাব অনেক বেশি দেখা যাবে। আজ রাতে ফুটমার্ক থেকে বল যেভাবে স্পিন করছিল তা বেশ স্পষ্ট। পেসারদের জন্য উইকেটের মাঝখানের অংশ কোনো অসমান আচরণ করবে কি না তা নিশ্চিত না হলেও, টেস্টের বাকি সময়ে স্পিনের একটি বড় ভূমিকা থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি।
অস্ট্রেলীয় ব্যাটার জশ ইংলিস ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০০ রানের বেশি লিড নিতে দিতে চান না। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে দল মাত্র ৪০ রানে এগিয়ে থাকলেও কতটা লক্ষ্যকে নিরাপদ বলা যায়— তা নিয়ে আগেভাগে কোনো ভবিষ্যৎবাণী করতে চাননি হারমার। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে বেশি ভাবার চেয়ে আগামীকাল ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা কীভাবে পার হচ্ছে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওই প্রথম এক ঘণ্টা ভালো করতে পারলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে, লক্ষ্য নিয়ে তাড়াহুড়ো করলে মনোযোগ সরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউল্যান্ডসে সর্বনিম্ন ২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া ঠেকিয়ে জেতার রেকর্ড রয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভারতীয় দলকে ১৩৫ রানে অলআউট করে সেই জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ভার্নন ফিল্যান্ডার। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ এই মাঠে এটিই অক্টোবরে আয়োজিত প্রথম টেস্ট। ম্যাচের প্রথমভাগে উইকেট বেশ ফ্ল্যাট ছিল, যেখানে ১৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও মাত্র ১৭১ রানের ব্যবধানে ১০টি উইকেট হারিয়ে ৩২৯ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর জবাবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৪২৯ রান তোলে এবং ১০০ রানের লিড নেয়। তৃতীয় দিনের সকালে অস্ট্রেলিয়া যখন ৪ উইকেটে ৩৭০ রান নিয়ে শক্ত অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে সফরকারীদের দ্রুত গুটিয়ে দিতে পেরে স্বস্তি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়াদের ব্যাটারদের মধ্যে ৫ জন শূন্য রানে আউট হন এবং মিচেল স্টার্কের দ্বিতীয় নতুন বলের স্পেলে মাত্র ৬ বলের ব্যবধানে পড়েছিল ৪টি উইকেট। হারমার জানান, প্রতিপক্ষকে ১০০ রানের বেশি লিড নিতে না দেওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য, কারণ কুপার কনোলির মতো অনভিজ্ঞ ব্যাটার ও বোলাররা বাকি থাকায় সেই সুযোগ তারা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।
প্রথম ইনিংসের সেই ব্যাটিং বিপর্যয় দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। দলটিতে গভীর ব্যাটিং লাইনআপ থাকলেও সিরিজে টিকে থাকতে হলে মজবুত জুটি গড়ার বিকল্প নেই। পরবর্তীতে বল হাতে দারুণ পারফর্ম করতে পারলেই কেবল ম্যাচ জয়ের জন্য প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সম্ভব হবে।

