শুক্রবার লন্ডনে আয়োজিত এক বিশেষ নির্বাচনে অদ্ভুত আবর্জনা ফেলার বিন বা ট্র্যাশ-ক্যান পরিহিত কমিক প্রার্থী কাউন্ট বিনফেসকে পরাজিত করেছেন নাইজেল ফারাজ। এর মাধ্যমে তিনি পার্লামেন্টে তার আসনটি পুনরায় ফিরে পেলেন, যা তিনি গত জুলাই মাসে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফারাজ রিফর্ম ইউকে দলের নেতা এবং অনেকে তাকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও বিবেচনা করেন।
জুলাই মাসে ফারাজ তার আসন থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৬.৭ মিলিয়ন ডলারের একটি বিদেশি ক্রিপ্টো বিলিয়নেয়ারের উপহারের অর্থ ঘোষণা না করার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। ভোটারদের সমর্থন প্রমাণের লক্ষ্যেই তিনি পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিনফেস পেয়েছেন ২৭ শতাংশ ভোট। বছরের উষ্ণতম দিনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪৪ শতাংশ।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনকে ফারাজের একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করে তা বর্জন করায়, ৩৪ জন প্রার্থীর ভিড়ে কাউন্ট বিনফেস প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। ফারাজ ভোরেই তার জয়ের ঘোষণা দেন, তবে তিনি আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তার দাবি, পুলিশ তাকে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে 'বিশৃঙ্খলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা' সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। রিফর্ম ইউকে-এর পক্ষ থেকে তার জীবনের ওপর 'বিশ্বাসযোগ্য হুমকি'র কথা বলা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সকল অংশগ্রহণকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
কাউন্ট বিনফেসের ছদ্মনামে থাকা জন হার্ভে একজন মধ্যবয়সী কমেডিয়ান। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় ট্যাক্স কমানো এবং গায়ক অ্যাডেলকে জাতীয়করণের মতো অদ্ভুত সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিনফেস আটটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং এবারের ফলাফল তার সেরা অর্জন। ৫ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় তিনি তার জমা দেওয়া ৫০০ পাউন্ড বা ৬৭৫ ডলারের জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন।
ফারাজের এই জয় ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের ক্ল্যাকটন এলাকায় তার শক্তিশালী সমর্থনের প্রমাণ দিলেও, ভবিষ্যতে এই আসনটি ধরে রাখা তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তিনি পদত্যাগ করার পর পার্লামেন্টের মানদণ্ড বিষয়ক ওয়াচডগের তদন্ত স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, যা এখন পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তদন্তের ফলে তাকে আবারও পার্লামেন্ট ছাড়তে হতে পারে। থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিপ্টো বিলিয়নেয়ার ক্রিস্টোফার হার্বনের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ঘোষণা না করায় এই তদন্ত চলছে। ফারাজ অবশ্য এই অর্থকে ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে দাবি করে আসছেন।

