নাইজেরিয়া মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পাঠানো প্রায় ২০০ মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এই সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। সে সময় নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খ্রিস্টান গণহত্যার অভিযোগ উঠেছিল।
নাইজেরীয় সরকারের ভাষ্যমতে, মার্কিন সেনারা প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে সহায়তা করেছেন। এছাড়া তারা একটি যৌথ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে ইসলামিক স্টেটের এক শীর্ষ নেতা নিহত হন।
নাইজেরীয় সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সামাইলা উবা বলেন, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক। তিনি আরও জানান, মার্কিন কর্মীদের এই মোতায়েন নির্দিষ্ট কিছু অপারেশনাল এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত ছিল। উবা উল্লেখ করেন যে, এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের কিছু কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নাইজেরিয়া বর্তমানে এক গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে জিহাদি গোষ্ঠী এবং অন্যান্য অপরাধী চক্র নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ক্ষমতায় আসার পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং এর প্রভাব দেশটির দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং নিরাপত্তা সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবি সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। গত সপ্তাহেই দেশটির মধ্যাঞ্চলে বহু মানুষকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।

