উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলে সাগরে আরও একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে একই দিনে তারা একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। তবে রবিবার চালানো এই দ্বিতীয় উৎক্ষেপণটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে উৎক্ষেপণ করা প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়ার পূর্ব সাগরের দিকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার (২৮০ মাইল) পথ অতিক্রম করে। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া তার নজরদারি ও সতর্কাবস্থা জোরদার করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাথে এই উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত তথ্য নিবিড়ভাবে আদান-প্রদান করছে। সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই উসকানির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী এই পরীক্ষা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার একটি সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, তবে সেটি জাপানের নিজস্ব জলসীমায় পড়েনি।
এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো, যার মাত্র দুই দিন আগে উত্তর কোরিয়া মার্কিন বৈরিতার বিরুদ্ধে তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার হুমকি দিয়েছিল। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি যৌথ সামরিক মহড়া সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিলেও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, মহড়ার পরিধি কমালেও এর আগ্রাসী ও উসকানিমূলক চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয় না। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তর কোরিয়া এর আগে প্রায় ১০টি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।
গত শুক্রবার কিম ইয়ো জং এ অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুপাক্ষিক সামুদ্রিক মহড়া ‘প্যাসিফিক ভ্যানগার্ড’-এর তীব্র সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মহড়াকে তিনি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার একটি ‘উন্মত্ত সামরিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিয়মিত যুদ্ধ মহড়া। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উত্তর কোরিয়া আরও স্পষ্ট পদক্ষেপ নেবে এবং তাদের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া কখনও ব্যাহত হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোন নিয়ে একটি যৌথ লাইভ-ফায়ার মহড়া পরিচালনা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পাঁচ দিনের ত্রিপক্ষীয় মহড়া শেষ হওয়ার পরদিন এই পরীক্ষা চালানো হয়। উত্তর কোরিয়া জানায়, তাদের এই সমন্বিত মহড়ার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করার সক্ষমতা অর্জন করা।
২০১৯ সালে ট্রাম্পের সাথে কিম জং উনের ঐতিহাসিক পরমাণু আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও প্রসারিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। ট্রাম্প সে সময় কিমের সাথে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পেন্টাগনকে বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া ও চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর ভর করে কিম জং উন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো সম্ভাব্য আলোচনায় নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে চাইছেন। কিম ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতি ‘শত্রুতামূলক নীতি’ ত্যাগ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবেই তারা পুনরায় আলোচনায় ফিরতে পারেন।

