পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসার সুব্যবস্থা না থাকলে বেসরকারি হাসপাতালে অথবা বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ ক্যাবিনেট মন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইমরান খানের চিকিৎসা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এই চিকিৎসা সংক্রান্ত ছাড় কেবল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নাকি অন্যান্য বন্দিদের জন্যও তা বাড়ানো যেতে পারে—এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের এই স্পষ্টীকরণের আবেদন আদালতের রায় অমান্য বা বাস্তবায়নে বিলম্ব করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলবে।
এদিকে ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে আসার সম্ভাবনায় ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে ইমরান খানকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁকে একনজর দেখার বা ছবি তোলার আশায় হাসপাতালের বাইরে বহু সাংবাদিক ভিড় করেছেন।
এর আগে, ইমরান খানের নিজের পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকার এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের আবেদন জানালে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদালত তা খারিজ করে দেয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের ওই আদেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের আগেই ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল বোর্ড তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের কারাগারেই চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে গত জানুয়ারির শেষের দিকে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়, যখন তাঁর পরিবার দাবি করে যে তিনি ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকার প্রথমে এই দাবি অস্বীকার করলেও পরে জানায় যে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৭০ শতাংশ ফিরে এসেছে এবং তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

