জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে সামনে রেখে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে 'অযৌক্তিক' হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে, এটি পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার পরিপন্থী এবং অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির পথে অন্তরায়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলও আন্তর্জাতিক বৈধতা এবং ৪ জুন ১৯৬৭-এর সীমান্তের ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে পাশাপাশি বসবাস করবে।
ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যাওয়ার সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে—ওয়াশিংটনের এমন যুক্তিও দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে ফিলিস্তিন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার একটি বৈধ ও শান্তিপূর্ণ উপায়, যা ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, অবৈধ বসতি স্থাপন, ভূমি দখল, বাস্তুচ্যুতি এবং ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সাথে তুলনীয় নয়।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, ফিলিস্তিনের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কোনো আলোচনার বিকল্প নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি। এছাড়া, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, আর্থিক, প্রশাসনিক, শিক্ষাগত ও আইনি খাতে ব্যাপক সংস্কারের বিষয়টি মার্কিন বিবৃতিতে স্বীকার না করায় মন্ত্রণালয় বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শান্তি বা সহিংসতা রোধে কোনো ভূমিকা রাখবে না, বরং রাজনৈতিক সমাধানের পথে থাকা অংশীদারদের দুর্বল করবে।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরের চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিন। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পিএলও ও পিএ তাদের আইনি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হচ্ছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিনিদের কর্মকাণ্ড শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে পিএলও-এর জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মিশনের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় বজায় রাখা হয়েছে। গত বছরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সশরীরে জাতিসংঘে অংশ নিতে পারেননি এবং ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়েছিলেন।

