লাতিন আমেরিকা সফরকালে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ লিও চতুর্দশ জানিয়েছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নাগরিক হিসেবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তিনি গর্বিত। এই নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর নীতি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে ডেমোক্র্যাট দল। নিজের জন্মশহর শিকাগো থেকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিষয়ে পোপ মন্তব্য এড়িয়ে গত সপ্তাহে ভ্যাটিকান থেকে জারি করা বিবৃতির প্রতি ইঙ্গিত করেন এবং স্পষ্ট জানান, একজন আমেরিকান হিসেবে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তিনি গর্ববোধ করেন।
গত ৩০ অক্টোবরের ওই বিবৃতিতে ভ্যাটিকান জানায়, নাগরিক দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের নীতিতে বিশ্বাস থেকে পোপ লিও যোগ্যতা অর্জন করার পর প্রতিটি নির্বাচনেই ভোট দিয়েছেন। ৭১ বছর বয়সী এই পোপের পেরুর নাগরিকত্বও রয়েছে এবং সেখানে থাকার সময়েও তিনি ভোট দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক পেরুর নির্বাচনে অনুপস্থিত ভোটারদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা না থাকায় তিনি অংশ নিতে পারেননি উল্লেখ করে পোপ বলেন, সুযোগ থাকলে তিনি অবশ্যই ভোট দিতেন কারণ এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ।
একই সাথে একটি বিদেশি রাষ্ট্র ভ্যাটিকানের প্রধান হিসেবে মার্কিন নির্বাচনে তাঁর ভোটদান নিয়ে কিছু রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নিবন্ধিত রবার্ট প্রিভোস্ট হিসেবে, যা ২০২৫ সালের ৮ মে পোপ হওয়ার আগের নাম। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী বিদেশি সরকারে কর্মরত নাগরিকরাও মার্কিন নাগরিকত্ব বহাল রাখতে পারেন। কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে রসিকতা করতে ভালোবাসেন পোপ लियो; যেমন সম্প্রতি তাঁর আলমা মেটার ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিপক্ষ নটর ডেমের বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি মজা করে বলেছিলেন, 'পোপ' কোনো দল নেন না, তবে 'প্রিভোস্ট' ছিলেন ভিলানোভার অনুরাগী।
ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর ডান ফুসফুসের একটি টিউমার অপসারণের মাত্র তিন সপ্তাহ পর তিন দেশের ১২ দিনের সফর শুরু করেছেন পোপ। উরুগুয়ের মন্তেভিদেও দিয়ে শুরু হওয়া এই সফরে তিনি আর্জেন্টিনা ও পেরু সফর করবেন। সফরের শুরুতেই বিমানে সাংবাদিকদের অভিবাদন জানিয়ে তিনি বলেন, এই সফরে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে রসিকতা করে পোপ বলেন, তিনি দেখতে যেমন সুস্থ লাগছে, তারচেয়েও ভালো বোধ করছেন।
গত ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ফ্রান্স সফরের পর ও ১১ অক্টোবর ক্যানসার শনাক্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাঝে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষায় তাঁর ফুসফুসে একটি গুটি বা নোডিউল ধরা পড়ে। এর দুই দিন পর ১৩ অক্টোবর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন এটি ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন অ্যাডেনোকারসিনোমা ছিল এবং সফল অস্ত্রোপচারের পর তাঁর আর কোনো অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। পোপ লিও জানান, প্রথম দিন থেকেই এই সফর সম্পন্ন করার ব্যাপারে তাঁর মনে কোনো সংশয় ছিল না।
নিজের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সার্জনদের সেবা এবং সুস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাকে কৃতিত্ব দেন পোপ লিও। নিয়মিত পরীক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রারম্ভিক ধাপে রোগ শনাক্ত হওয়াই সুস্থতার সেরা উপায়। এই অসুস্থতার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অসুস্থ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, যা তাঁর লাতিন আমেরিকা সফরের অন্যতম প্রধান বার্তা হতে যাচ্ছে।

