ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রবিবার রুশ সম্প্রচারমাধ্যম ভিজিটিআরকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। পুতিন বলেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন এবং এ বিষয়ে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সব সমস্যা এখনো সমাধান না হলেও তা সমাধানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক একই সাক্ষাৎকারে জানান, দেশটিতে ডিজেল ও কেরোসিনের সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। শুধুমাত্র পেট্রোলের ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি ও অসুবিধা রয়ে গেছে।
সাক্ষাৎকারে নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের অবস্থানের বিষয়েও মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি বলেন, পোল্যান্ডের ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের রুট সরিয়ে বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে পোল্যান্ড ট্রানজিট থেকে সম্ভাব্য আয় হারিয়েছে। পুতিনের দাবি, মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী পোল্যান্ডের ভেতর দিয়ে ইয়ামাল-ইউরোপ পাইপলাইনের পাশাপাশি দ্বিতীয় গ্যাস রুটটি নির্মাণের কথা ছিল এবং পোল্যান্ডে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করা হয়েছিল।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুতিন আবারও ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘নব্য-নাৎসি মতাদর্শ’ প্রচারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নাৎসিবাদকে মহিমান্বিত করা’ মেনে নেবে না, কারণ ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এমন ব্যক্তিদের সম্মান জানায় যারা পোলিশ, ইহুদি ও রুশদের গণহত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি পোল্যান্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও পোলিশ কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রকাঠামোর ভিত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জনমতের চাপে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

