শিকাগোর রিভারওয়াক এলাকায় দাঁড়িয়ে নিজের আট বছরের শাসনামলের শহরের প্রশংসা করে সাবেক মেয়র রাম ইমানুয়েল বলেন, এই শহর তার কঠোরতা ও বাস্তববাদী মনোভাবের জন্য পরিচিত। তিনি নিজেকে একজন দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যা সঠিক বলে মনে করেন তা তিনি যেকোনো উপায়ে সম্পন্ন করেন।
ইমানুয়েলের এই কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি তার রাজনৈতিক সাক্ষাৎকারেও স্পষ্ট। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশ এবং বার্নি স্যান্ডার্সের মতো নেতাদের কঠোর সমালোচনা করতে পিছপা হন না। ২৬ জুলাই "ফেস দ্য নেশন" অনুষ্ঠানে স্যান্ডার্স বলেন, "মানুষ রাম ইমানুয়েলদের মতো ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের নিয়ে ক্লান্ত ও বিরক্ত।" স্যান্ডার্স ও তার সমর্থক প্রগতিশীলরা মনে করেন ইমানুয়েলের মতো নেতারা দলের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন, অন্যদিকে ইমানুয়েল মনে করেন প্রগতিশীলরা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য সহায়ক নয়। তিনি সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা একটি নিবন্ধে সতর্ক করে বলেছেন যে, চরমপন্থী অবস্থান মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইমানুয়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে প্রগতিশীলদের বাহন হিসেবে দেখতে চান না। তিনি পুলিশের বাজেট কমানো বা উন্মুক্ত সীমান্তের মতো ইস্যুগুলোর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। বর্তমানে তিনি ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোকাবিলায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইহুদি বংশোদ্ভূত ইমানুয়েল আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি সরকারের সাথে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী সহিংসতা ও ঘৃণার উত্থান মেনে নেওয়া যায় না। তার মতে, এটি কেবল ইহুদিদের সমস্যা নয়, বরং এটি মার্কিন সমাজের জন্য একটি বড় নৈতিক সংকট।
নিজের পারিবারিক ইতিহাসের কথা স্মরণ করে ইমানুয়েল বলেন, তার পূর্বপুরুষরা ১৯১৪ সালের আগের রুশ পোগ্রাম ও পরবর্তীকালে হলোকাস্ট থেকে রক্ষা পেয়ে আমেরিকায় এসেছিলেন। এই ইতিহাস তাকে সবসময় মনে করিয়ে দেয় যে, একজন আমেরিকান হওয়া ভাগ্যের বিষয় এবং দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করার দায়িত্ব তাদেরই। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমানে আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের দেশের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলা, যা পুনরুদ্ধারে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
৬৬ বছর বয়সী ইমানুয়েল বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও তা সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি এখন এমন এক পর্যায়ে আছেন যেখানে তিনি নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দেশের সেবা করতে চান। তিনি ট্রাম্প বা দলের লড়াইয়ের চেয়েও বড় কোনো লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য।

