রবিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে টানা বর্ষণের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে এখনো পানি জমে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারিভাবে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। গত ১০ দিনে দেশজুড়ে বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে ব্যাংককের অনেক এলাকায় ৩০ সেন্টিমিটারের (১১.৮ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে সড়ক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রবিবার দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে, তবে সোমবার নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
শহরজুড়ে দুই শতাধিক অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ মানুষ অবস্থান করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে এখনো ৩১টি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্যাংককের গভর্নর চাতচাত সিত্তিপুন জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমলেও শহরের প্রধান খালগুলোতে পানির উচ্চতা এখনো অনেক বেশি। কিছু এলাকায় পানি এখনো বাড়ছে কারণ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে পানি শহরের দিকে নেমে আসছে। বিশেষ করে উপশহরগুলোর নিচু এলাকা এখনো পানির নিচে এবং অনেক বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে।
দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ব্যাংকক ছাড়াও দেশের আরও ২৫টি প্রদেশে ৫ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। বিশেষ করে মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রকট। প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভীরাকুল জানিয়েছেন, অবিরাম বর্ষণের ফলে অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন।
বন্যার কারণে বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেন ও বাস চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সচল থাকলেও যাত্রীরা ফ্লাইট বিলম্বের মতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

