২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে পেন্টাগনে হামলার ঠিক পরের মুহূর্তগুলো ধারণ করেছিলেন জিউড কোক এবং তার ক্যামেরা ক্রু। ২৫ বছর পর সেই বিরল ভিডিও ফুটেজগুলো প্রথমবারের মতো আমেরিকান জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হচ্ছে। ওইদিন সকালে জিউড কোক, ক্যামেরাম্যান বিলি ডিউইস এবং দমকলকর্মী ক্রিস্টোফার ডিউলফ বাল্টিমোর সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের জন্য একটি জরুরি প্রশিক্ষণ ভিডিও তৈরির কাজ করছিলেন। হামলার খবর পাওয়ার পর তারা তাদের মিশন পরিবর্তন করে দ্রুত পেন্টাগনের ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
ঘটনার পর তিন দিন ধরে তারা আরলিংটন কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সাথে থেকে পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করেন। জিউড কোকের দাবি অনুযায়ী, তারা ওই সময় জ্বলন্ত ভবনের কাছাকাছি থাকা একমাত্র বেসামরিক ক্যামেরা ক্রু ছিলেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই ফুটেজগুলো কোকের কাছে সংরক্ষিত ছিল। তিনি জানান, ২০তম বার্ষিকীর কাছাকাছি সময়ে তিনি এই ফুটেজগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এরপর তিনি ৯/১১ লিগ্যাসি ফাউন্ডেশনের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি ছয় পর্বের তথ্যচিত্র তৈরির কাজ শুরু করেন।
চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে তারা প্রতি মাসে তিন থেকে সাত মিনিটের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করছেন। এই ফুটেজগুলোতে পেন্টাগনের পুড়ে যাওয়া করিডোর, উদ্ধারকারী দলের কার্যক্রম এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৭৭-এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের দৃশ্য দেখা যায়। এছাড়া, ধসে পড়া ভবনের চতুর্থ তলায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একটি মেরিন কোরের পতাকা এবং একজন পুলিশ চ্যাপলেইনের প্রার্থনার দৃশ্যও এতে উঠে এসেছে।
জিউড কোক জানান, এই ফুটেজগুলো কেবল ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত হবে। তিনি পেন্টাগন মেমোরিয়াল ফান্ডের সাথে কাজ করছেন যাতে এই ভিডিওগুলো ভিকটিমদের স্মরণে নির্মিতব্য একটি এডুকেশন সেন্টারে স্থায়ীভাবে রাখা যায়। কোক আশা প্রকাশ করেন যে, এই ফুটেজগুলো সাধারণ মানুষের কাছে প্রথম সারির উদ্ধারকর্মীদের সাহসিকতা ও ত্যাগের গল্প তুলে ধরবে।
