রাশিয়ায় প্রায় চার বছর বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যান। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং মৃত্যুর ঝুঁকিতে ছিলেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পূর্ণ মানবিক কারণে রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন। এই মুক্তির পেছনে কোনো ধরনের বন্দি বিনিময় করা হয়নি এবং রাশিয়া এর বিনিময়ে কাউকে ফেরত চায়নি। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, গিলম্যান মঙ্গলবার রাতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছাবেন, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানাবেন। ট্রাম্প আরও জানান, তিনি গিলম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং গিলম্যানের একমাত্র অনুরোধ ছিল পৌঁছানোর পর একটি ভালো চিজবার্গার খাওয়া।
গ্লোবাল রিচ নামক একটি সংস্থার চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার এরিক লেবসন জানিয়েছেন, গিলম্যানকে টেক্সাসের একটি মার্কিন সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হবে। মুক্তির পর গিলম্যান তাঁর মা ন্যান্সির সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন, যিনি ছেলের সঙ্গে দেখা করতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং এখন একই ফ্লাইটে তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন।
গিলম্যানের বোন লেক্সি হাডসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "আমার ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়টি জানতে পেরে পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেই রবার্ট আজ বেঁচে আছেন, অন্য কোনো কারণে নয়।"
ম্যাসাচুসেটসের লোয়েলের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী এই শিক্ষক ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ায় বন্দি ছিলেন। ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নামিয়ে দেওয়ার পর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের দায়ে ২০২২ সালে তাঁকে প্রথম সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারাগারের পরিদর্শক, তদন্তকারী এবং রক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাঁর সাজা বাড়িয়ে ৮ বছর ১ মাস করা হয়। গত বছর সেই সাজা আরও বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছিল।
কারাগারে গিলম্যানের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরিক লেবসন জানান, মুক্তির আগে গিলম্যান নির্যাতনের কারণে টানা ৪৭ দিন ধরে এক ধরনের অসাড় বা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় (ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর) ছিলেন। তাঁকে কারাগার থেকে বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে নাকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছিল এবং বিছানার সঙ্গে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছিল। লেবসন আরও জানান, রুশ কর্তৃপক্ষ গিলম্যানকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত জোরপূর্বক ব্যায়াম করানো, মানসিক রোগের ওষুধ দেওয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে চাপ দেওয়ার মতো নির্যাতন করেছে।
গিলম্যানের মুক্তির জন্য ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, গিলম্যানের আশঙ্কাজনক স্বাস্থ্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার রাশিয়ার কাছে মানবিক ভিত্তিতে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার বড় ধরনের বন্দি বিনিময়ের পরও অন্তত আটজন মার্কিন নাগরিক রুশ হেফাজতে ছিলেন, যাদের মধ্যে গিলম্যান একজন ছিলেন।

