তথ্য স্বাধীনতার জন্য কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ইসরায়েলের হাতে আটক থাকা সকল ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি রামাল্লার কাছে নিজের বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আওয়াদ নামের এক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনার পর এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মোহাম্মদ আওয়াদ এএফপি এবং আল জাজিরার মতো গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করতেন।
শুক্রবার আরএসএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আওয়াদকে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করেছে। সংগঠনটির ভাষ্যমতে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে এই ধরনের অভিযোগ আনা হয়। আরএসএফ জানায়, এটি অন্যায্য আটকের আরও একটি ঘটনা হতে পারে বলে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।
আওয়াদের পরিবার জানিয়েছে, গত বুধবার তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি সামরিক গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, আওয়াদ 'সন্ত্রাসী হামলা এগিয়ে নেওয়ার সন্দেহে' আটক হয়েছেন এবং কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই তারা অভিযোগ করেছে যে, সে হামাসের হয়ে কাজ করছিল।
ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সমাজ (Palestinian Prisoners' Society) জানিয়েছে, আওয়াদকে আটকের ফলে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সংখ্যা এখন ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকেই ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সিন্ডিকেট এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে দখলদার বাহিনীর একটি সুপরিকল্পিত নীতির অংশ। তাদের মতে, এটি গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার এবং সত্য প্রচার বাধাগ্রস্ত করার একটি ধারাবাহিক অপপ্রয়াস। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় এ পর্যন্ত ২৬০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে হত্যা করেছে।

