রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে সম্প্রতি যে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে নিছক 'গুঞ্জন' বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। যদি এটি ঘটনা হয়, তখন সরকার বিষয়টি দেখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চান, তবে সংবিধানে তার সুনির্দিষ্ট পথ রয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বা সরকারি সিদ্ধান্তের কথা তার জানা নেই।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে তাকে নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। তবে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সেই সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন। এরপর পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তনের সময় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তার পদত্যাগের দাবি উঠলেও অন্তর্বর্তী সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।