সার্বিয়ার ক্ষমতাসীন দল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেছে যে, আসন্ন আগাম সংসদীয় নির্বাচনে জয়ী হলে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসচিচ দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নির্বাচনকে পপুলিস্টদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে।
ভুসচিচ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভেঙে দেননি এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ২৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নিস শহরে আয়োজিত দলের এক সভায় ভুসচিচ জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের প্রচারণায় আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করবেন এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১৪ বছরের শাসনামলে এবারের বিক্ষোভ ভুসচিচকে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে ফেলেছে। কখনো কখনো এই বিক্ষোভে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা গত ১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে নভি সাদে কংক্রিটের ছাউনি ধসে পড়ার ঘটনায় জবাবদিহিতা দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, খারাপভাবে সংস্কার কাজের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং তারা দেশজুড়ে দুর্নীতির অবসানের দাবি তুলেছেন।
সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং পুলিশের সহিংসতা ও বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ভুসচিচ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভের পেছনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অধ্যাপকদের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা। শনিবারও তিনি একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, এই বিক্ষোভ বিদেশি শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই অশুভ শক্তি ভেতর থেকে নয়, বরং বাইরে থেকে আসছে।
আসন্ন নির্বাচনে শাসক দল এসএনএস (SNS) একটি শিক্ষার্থী-সমর্থিত নির্বাচনী তালিকার মুখোমুখি হবে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া নির্বাচনে ডানপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দল এবং বেশ কয়েকটি ছোট দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সার্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ভুসচিচের আমলে গণতন্ত্রের মানদণ্ড নিচে নেমে যাওয়া এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের কারণে এই প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। ভুসচিচ ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের জেরে ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞা আরোপে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

