দক্ষিণ আফ্রিকায় গত ছয় দিনের ব্যবধানে তিনটি পৃথক গণ-বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির প্রধান তিনটি শহরের কাছে অবস্থিত দরিদ্র জনপদগুলোতে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ শনিবার রাতে এবং রবিবার ভোররাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
শনিবার জোহানেসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওয়েডেলা টাউনশিপের একটি স্থানীয় বারে আটজন বন্দুকধারী একে-৪৭ রাইফেল ও পিস্তল নিয়ে হামলা চালায়। তারা প্রথমে বারের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অন্তত ১৭ জনকে হত্যা করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত আট সন্দেহভাজনকে খুঁজছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ নিহতদের একজন অতীতে অন্য একটি গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই এলাকাটি অবৈধ খনি মাফিয়াদের সহিংসতার জন্য কুখ্যাত।
এর কয়েক ঘণ্টা পর কেপটাউনের কাছে লওয়ানডলে টাউনশিপে একটি বিনোদন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দোকানে আরেকটি হামলায় ১০ জন নিহত হন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ডারবানের কাছে কোয়ামাখুথা টাউনশিপের একটি বাড়ির পার্টিতে অন্তত তিনজন বন্দুকধারী জোরপূর্বক প্রবেশ করে গুলি চালায়, যাতে ১১ জন প্রাণ হারান। অপরাধীদের অন্তত একজনের কাছে একে-৪৭ রাইফেল ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
দেশটিতে গণ-বন্দুক হামলা বলতে সাধারণত একটি আক্রমণে তিন বা ততোধিক ব্যক্তিকে গুলি করাকে বোঝায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে প্রায়শই একজন বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা ঘটলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ হামলায় একাধিক বন্দুকধারী জড়িত থাকে এবং এগুলো মূলত অপরাধী চক্রের আধিপত্য বিস্তার বা এলাকা দখলের লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। অবৈধ মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডই এসব সহিংসতার মূল কারণ।
দরিদ্র জনপদগুলো এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলেও, দেশটির ধনী এলাকাগুলো কঠোর নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার কারণে তুলনামূলক নিরাপদ। পুলিশি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে দরিদ্র এলাকাগুলো অপরাধীদের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অপরাধ দমনে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গত মার্চ মাস থেকে এক বছর মেয়াদী একটি বিশেষ অভিযানে পুলিশকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন। তবে সরকারের সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে পুলিশের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন।

