ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনে ব্যাটিং করার সময় এবাদত হোসেনের বলে ক্যাচ দিয়েও ডিআরএস (DRS)-এর কল্যাণে বেঁচে যান স্টিভেন স্মিথ। ২১তম ওভারের ঘটনাটি ঘটে দুপুরের খাবারের বিরতির ঠিক আগে। এবাদতের বলে স্মিথ ব্যাট চালালে বাংলাদেশ দল সাথে সাথে আউটের আবেদন জানায়। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আঙুল না তুললে নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্মিথ নিজেও আউট ভেবে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় ডিআরএস-এ কোনো স্পাইক নেই, অর্থাৎ বল ব্যাটে লাগেনি।
ম্যাচ শেষে স্মিথ স্বীকার করেন যে তিনিও ভেবেছিলেন বল ব্যাটে লেগেছিল। তিনি বলেন, "আমি মনে করি লেগেছিল। আমি কি ভাগ্যবান? হ্যাঁ, মনে হচ্ছে তাই। মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে হয়।"
স্মিথের জন্য এই ইনিংসের শুরুটা বেশ ঘটনাবহুল ছিল। মাত্র ২ রানে থাকাকালীন তানজিদ হাসানের ক্যাচ মিসের কারণে জীবন পান তিনি। নিজের ব্যাটিং নিয়ে স্মিথ বলেন, "সত্যি বলতে, প্রথম ৩০ বল কীভাবে ব্যাট ধরতে হয় তা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।"
তবে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরে আসা স্মিথই ছিলেন অস্ট্রেলিয়া দলের একমাত্র ব্যাটার যিনি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭১ রান করে হাসান মাহমুদের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন। নাথান লায়নকে নিয়ে বড় সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। উল্লেখ্য, স্মিথ যে কয়টি দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছেন, তার মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যাদের বিপক্ষে তিনি এখনো সেঞ্চুরির দেখা পাননি। যদিও এটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে তার মাত্র তৃতীয় টেস্ট।
গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজ চলাকালীন ডিআরএস প্রযুক্তির নির্ভুলতা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল, বিশেষ করে রিয়েল-টাইম স্নিকো প্রযুক্তির ছবি ও অডিওর অসামঞ্জস্যতা নিয়ে। তবে স্মিথের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যেখানে কোনো স্পাইকই দেখা যায়নি।

