সিরিয়াকে ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর তালিকা থেকে অপসারণ করার মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার, জর্ডান, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি)। এই দেশ ও সংস্থাগুলোর মতে, এই পদক্ষেপটি সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন এবং পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় সহায়তা করবে।
মঙ্গলবার কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা সিরিয়া এবং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়ক হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বৈধতা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা এবং সিরিয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজনৈতিক নিষ্পত্তির পথকে সমর্থন করে। কাতার সিরিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে সিরিয়ার পুনর্গঠন, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ আল মাজালি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জর্ডান সিরিয়ার পুনর্গঠনে এমন ভিত্তির ওপর সমর্থন দিচ্ছে যা দেশটির ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করবে এবং সিরিয়ার সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করবে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিরিয়ার সরকার ও জনগণকে এই মার্কিন সিদ্ধান্তের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে এবং দেশটির দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেছে। সৌদি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রিয়াদ সিরীয় সরকারের নেওয়া সেই সব ইতিবাচক পদক্ষেপকে সমর্থন করে, যা নিরাপত্তা জোরদার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠন এবং সিরিয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক।
উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) এক পৃথক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। জিসিসি মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ আল বুদাইউই একে একটি ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের জন্য পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে। তিনি সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সংস্থার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছিল যে, তারা সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে এবং আল-নুসরা ফ্রন্ট বা হায়াত তাহরির আল-শামকে বিশেষভাবে মনোনীত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তা বাতিল করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। হায়াত তাহরির আল-শাম সিরিয়ার বিপ্লবের সময় বাশার আল-আসাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি ছিল। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতেন আহমেদ আল-শারা, যিনি ডিসেম্বর ২০২৪ সালে আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই তালিকায় ছিল। দামেস্ক এই সিদ্ধান্তকে অর্থনৈতিক লেনদেন, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ সুগম করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে অন্যান্য মার্কিন বিধিনিষেধগুলো পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে কার্যকর রয়েছে।

