যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নেতাদের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের আগে তাইওয়ান সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এই বৈঠকে স্বশাসিত এই দ্বীপটির ভাগ্য নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। শুক্রবার তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী এই মহড়ায় অংশ নেয়, যেখানে প্রথমবারের মতো আক্রমণাত্মক ড্রোন ও প্রচলিত অস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার দেখা গেছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এই মহড়াকে দ্বীপটির সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের একটি প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের কৌশলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের সাথে প্রচলিত অস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পিনতুং কাউন্টিতে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় ঠিক কী ধরনের ড্রোন পরীক্ষা করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা, জাহাজ-বিধ্বংসী এবং অবতরণ-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেছে। চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতায় আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ান সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। দেশটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনে থাকে, কারণ নিজস্ব আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দিতে বাধ্য। তবে ট্রাম্প ও শি’র মধ্যকার আলোচনায় মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি বারবার উঠে আসছে। মে মাসে তাদের সর্বশেষ বৈঠকের পর ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ স্থগিত করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহের জন্ম দেয়। ট্রাম্প অবশ্য অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিকে চীনের সাথে আলোচনার একটি ‘ভালো দরকষাকষির মাধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তাইওয়ানের সেনাবাহিনী আগামী সপ্তাহেও মহড়া অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হাইমার্স (HIMARS) রকেট সিস্টেম এবং স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র সিমুলেটরসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

