তানজানিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল এনচিম্বি তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার এই পদত্যাগ দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের নতুন ডেপুটি নির্বাচনের কাজ শুরু হবে।
নিজের পদত্যাগপত্রে ইমানুয়েল এনচিম্বি জানিয়েছেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে প্রেসিডেন্ট হাসান এখন অন্য কাউকে তার ডেপুটি হিসেবে চাইছেন। তবে তিনি তানজানিয়ার একজন ভালো নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট হাসানের সাথে এনচিম্বির ক্ষমতার দ্বন্দ্বই এই পদত্যাগের মূল কারণ।
দার এস সালামের মানবাধিকার আইনজীবী এবং বিশ্লেষক টিটো মাগোটি জানান, প্রেসিডেন্ট হাসান এবং এনচিম্বির মধ্যে সম্পর্ক বেশ কিছু দিন ধরেই ভালো ছিল না। বিশেষ করে গত ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে সরকার যে কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। সেই নির্বাচনের পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, সহিংসতায় অন্তত ৫১৮ জন নিহত হয়েছেন। ওই সময় প্রধান শহরগুলোতে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং বেশ কয়েক দিন ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল, যার জন্য প্রেসিডেন্ট হাসান পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
তানজানিয়ায় ১৯৬১ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই ‘চামা চা মাপিনডুজি’ (সিসিএম) পার্টি ক্ষমতায় রয়েছে। দলটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সাথে একীভূত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ২০২১ সালে পূর্বসূরি জন পম্বে মাগুফুলির আকস্মিক মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে এনচিম্বির পদত্যাগের মতো ঘটনা দেশটির স্থিতিশীল রাজনীতির ইতিহাসে বিরল। বর্তমানে হাসানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুন্দু লিসু রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন, যা নিয়ে দেশে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।

