প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৪১
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীতে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার রাতে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে চিলাখাল স্কুল পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই ভাঙন শুরু হয়। রাতের আঁধারে হঠাৎ ভাঙনের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত গোলাম রব্বানী রঞ্জু এবং কোলকোন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান বেঞ্জুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নদীপাড়ের মানুষের কাছ থেকে ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে শোনেন এবং তাদের দাবিগুলো সরাসরি অবহিত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া জানান, তিস্তার ভাঙন তাদের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক। ভাঙন শুরু হলেই বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও জীবিকা হারানোর অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। জলিল হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছরই তারা নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার অনুরোধ জানান এবং দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা দাবি করেন। খোকা মিয়া নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শুধু ভাঙনের সময় জিওব্যাগ ফেলে কোনো লাভ হয় না। সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। তারা আমাদের কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন এবং ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। সাময়িক ব্যবস্থার পরিবর্তে নদীর তীর সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার জানান, স্থানীয়দের প্রধান দাবি এখন ভাঙন বন্ধ করা এবং বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা। তিনি বলেন, মানুষের এই দাবিগুলো আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেব এবং ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাব।

