মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সমস্ত মাইন নিষ্ক্রিয় বা অপসারণ করা হয়েছে। তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যদি কোনো জাহাজ বা নৌকা নতুন করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করে, তবে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মার্কিন মহাকাশ বাহিনী (স্পেস ফোর্স) বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির প্রতিটি ইঞ্চি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মাইন স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে।
যদিও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন ও ইরানি সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি কোনো বিমান হামলার ঘটনা ঘটেনি, তবে এই সরু সামুদ্রিক পথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জাহাজগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। শিপ-ট্র্যাকার ভোর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এই প্রণালী দিয়ে দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল তেল চলাচল করেছে, যা যুদ্ধের আগের দৈনিক ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত প্রতি পাঁচটি ব্যারেলের মধ্যে একটি এই পথ দিয়ে আসত।
এদিকে, ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হরমুজ প্রণালীতে একটি অস্থায়ী করিডোর তৈরি এবং মাইন অপসারণের একটি যৌথ প্রকল্পের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন। উভয় দেশই এই জলপথের সীমান্ত দেশ হিসেবে ট্রানজিট প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, যা আগে থেকেই মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি তেহরানে এক বৈঠকে মিলিত হন। ওমানের পক্ষ থেকে শেয়ার করা এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা একটি পর্যায়ক্রমিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন যা ভবিষ্যতে এই জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত ভিত্তি হতে পারে।
এই কাঠামোর আওতায় হরমুজ প্রণালীতে একটি যৌথ অস্থায়ী নেভিগেশন করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং মাইন অপসারণের একটি যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, স্থায়ী করিডোর নির্ধারণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। উভয় দেশই উপসাগরীয় অঞ্চলের তীরবর্তী অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও যৌথ আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।

