মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিত আকারে নৌযান চলাচল এবং একটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া সত্ত্বেও এই জলপথটি "উন্মুক্ত ও সচল" রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ওমান ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন, কারণ তারা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার জন্য অনুমোদিত ছিলেন না। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ওমানের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন অঞ্চল হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, ট্রাম্প যেমন পারস্য উপসাগরের নাম সঠিকভাবে লিখেছেন, তেমনি হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার এই বিভ্রান্তিও শিগগিরই দূর হবে, অথবা ইরানই এই বিভ্রান্ত মানুষের ভুল সংশোধন করে দেবে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ৬০ দিনের আলোচনার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
শিপিং ডাটা প্ল্যাটফর্ম 'কেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নিশ্চিত হওয়া পারাপারের সংখ্যা ১৯.৫ শতাংশ কমে ৯৫-এ দাঁড়িয়েছে। ওমানি রুট সম্পূর্ণ অব্যবহৃত রেখে জাহাজগুলো কেবল ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করছে। গত রবিবার মাত্র তিনটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পেরেছে। অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ৬.৭ শতাংশ বেড়ে ২৫৪-এ পৌঁছেছে এবং অবস্থান গোপন করে চলাচলকারী বা 'ডার্ক ট্রানজিট' জাহাজের সংখ্যা ৪০ থেকে কমে ১৬-তে নেমে এসেছে।
ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কাছে হরমুজ প্রণালীতে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার আঘাতে একটি জাহাজের ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে এক ক্রু সদস্য হতাহত হয়েছেন। তবে হতাহত ব্যক্তি নিহত নাকি আহত হয়েছেন তা স্পষ্ট করা হয়নি। পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং ওমানি কোস্ট গার্ড ক্রুদের সহায়তা করছে। একই সময়ে, ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবা (SABA) এই হামলার খবর প্রকাশ করলেও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হুথিরা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তে, গাজা সিটির শাতি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের চিকিৎসার জন্য শিফা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হামাস কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় অন্তত ১,২৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যা হামাস পরিচালিত সরকারের অংশ, বিস্তারিত হতাহতের তালিকা সংরক্ষণ করে থাকে, যা জাতিসংঘ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে ইরান থেকে তাদের লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি আমিরাতের জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি ভেতরে পড়েছে। তবে ইরান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই একে ভিত্তিহীন দাবি উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির প্রচেক্ষাকে ব্যাহত করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমিরাত বেশ কয়েকবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটিই ছিল প্রথম হামলার দাবি।

