মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা প্রদানকারী বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা যেকোনো দেশের ওপর ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ (TREMENDOUS Economic Consequences) আরোপ করা হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি বা সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি সোমবার শেষ হওয়ার পর এই হুমকি এলো। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই সংঘাত নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক সমঝোতার লক্ষণ দেখা যায়নি। ট্রাম্প তার বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যেসব দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে কোনো ধরনের লাইফলাইন প্রদান করবে, তারা নিজেরাও এই পরিণতির শিকার হবে।
তিনি তেল চোরাচালান, সোয়াপ লাইন, নগদ অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস এবং ফ্রন্ট কোম্পানির কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা করেছিল যে, ইরান থেকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির পর তারা দেশটির সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে। ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে সমুদ্রগামী জাহাজের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যদিও সেগুলো সাগরে গিয়ে পড়েছে।
ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে অর্থ পাচার ও শেল কোম্পানির মাধ্যমে লেনদেন করে আসছে।
এই সিদ্ধান্তের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সহায়তা না করার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছে, এমন কোনো পদক্ষেপকে তারা যোগসাজশ হিসেবে গণ্য করবে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট প্রায় এক সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলেন যে, ইরানকে বিশ্ব থেকে নজিরবিহীনভাবে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে। হোয়াইট হাউস ও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছে বিবিসি।
এছাড়া, সম্প্রতি ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওমানের বিরুদ্ধেও সামরিক হুমকির কথা জানিয়েছেন। ওমান ও যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে হরমোজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে, যা বর্তমান সংঘাতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে।

