তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন যে, তুরস্ক ও মিশর পারস্পরিক বিশ্বাস এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে তাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
শুক্রবার মিশরে আয়োজিত 'তুরস্ক-মিশর জয়েন্ট প্ল্যানিং গ্রুপ'-এর দ্বিতীয় বৈঠকে সহ-সভাপতি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এই মন্তব্য করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সাথে এই বৈঠক শেষে ফিদান জানান, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে 'চমৎকার পর্যায়ে' রয়েছে এবং এই আলোচনা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন উন্নয়ন পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।
এই সফরকালে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করা এবং দেশ দুটির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ফিদান মিশরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান হাসান রাশাদ এবং আরব লিগের মহাসচিব নাবিল ফাহমির সাথেও বৈঠক করেন।
তুরস্ক ও মিশরকে 'দুটি প্রধান রাষ্ট্র' হিসেবে অভিহিত করে ফিদান বলেন, তারা তাদের ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা কেবল আমাদের জনগণের সাধারণ স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে।'
মিশরের আতিথেয়তার প্রশংসা করার পাশাপাশি ফিদান তার মিশরীয় প্রতিপক্ষ বদর আবদেলাত্তিকে 'মূল্যবান কাউন্টারপার্ট এবং ভাই' হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের ভিশন অনুযায়ী আঙ্কারা ও কায়রো পারস্পরিক বিশ্বাস ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে 'কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে' কাজ চালিয়ে যাবে।

