তুরস্কের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের জনবলকে আরও শক্তিশালী করতে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, চিপ প্রযুক্তি এবং উন্নত কম্পিউটার সিস্টেমের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আরও জানান, একটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৫৫০ জন পিএইচডি শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। তাদের দেশের ২০টি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৩,০০০ তরুণ গবেষককে তুরস্কের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত করা। এরদোয়ান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শক্তির ওপর ভিত্তি করেই আমরা 'তুরস্কের শতাব্দী' গড়ে তুলব। একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন তুরস্কের জন্য আমরা কাজ করে যাব, যারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবে এবং বিশ্বকে উপহার দেবে।
এই নতুন উদ্যোগটি তুরস্কের ২০২৬-২০৩০ সালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দেশটির প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তুরস্ককে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে তুরস্ক ১০,০০০ উচ্চ পর্যায়ের এআই বিশেষজ্ঞ এবং ১,০০,০০০ অ্যাপ্লিকেশন প্রফেশনাল তৈরি করবে। এছাড়া দেশের ৮১টি প্রদেশের ৫০ লাখ মানুষের জন্য এআই সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
এই রোডম্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো বিভিন্ন খাতে পাইলট প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

