বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী রাজা হিসেবে পরিচিত উগান্ডার তোরো রাজ্যের শাসক ওয়ো নিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি তোরো রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মুকুট পরেন।
রাজার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তোরো রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডার একজন সরকারি মন্ত্রী জানিয়েছেন যে রাজা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উগান্ডায় রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলো সাংস্কৃতিক প্রভাব বজায় রাখে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, রাজা ওয়ো বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজকীয় শাসক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন এবং তিনি প্রায় ২০ লাখ মানুষের ওপর শাসন করতেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রতিষ্ঠিত এই রাজ্যের ১৩তম রাজা ছিলেন তিনি।
তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোমাইরে আকিইকি বৃহস্পতিবার রাজার মৃত্যুকে রাজপরিবার এবং তোরোর জনগণের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুক্রবার তিনি এক বিবৃতিতে জনগণের প্রতি শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তার মহামান্য রাজা চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিন।
তোরো রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের শাসক নির্বাচন করে থাকে। রাজা ওয়ো আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহিত ছিলেন না, তবে প্রধানমন্ত্রী আকিইকি নিশ্চিত করেছেন যে সিংহাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তিনি জানান, রাজার একজন উত্তরাধিকারী বা রাজপুত্র রয়েছেন, যার পরিচয় ঐতিহ্য ও প্রথা অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে। ১৯৯৫ সালে রাজা হওয়ার পর থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত একটি রাজপ্রতিনিধি দল শাসনকার্য পরিচালনা করত, যার মধ্যে রানী মা-ও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
জনগণের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই তরুণ রাজা যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, জলবায়ু সংরক্ষণ এবং এইচআইভি/এইডস সচেতনতার মতো বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। উগান্ডার সবচেয়ে প্রভাবশালী ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বুগান্ডা রাজ্যও তোরোর জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাকে উগান্ডার একজন মূল্যবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছে।

