২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ত্রাণবাহী গাড়িবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সাত ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় কোনো ফৌজদারি তদন্ত না করার সিদ্ধান্তকে 'লজ্জাজনক' বলে অভিহিত করেছে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। নিহতরা মার্কিন সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) কর্মী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে এই তিন দেশের নাগরিকরাও ছিলেন।
দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ধীরগতির এবং অপর্যাপ্ত। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু গাজায় এমন অসংখ্য ঘটনার কোনোটিরই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক কর্মীরা কাজ করছেন। যদিও যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে, তবুও গাজা বর্তমানে ত্রাণ সহায়তার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে, যেখানে কেবল ২০২৫ সালেই ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিহতদের মধ্যে থাকা জনি ফ্র্যাঙ্ককমের পরিবার জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এমন এক অভ্যন্তরীণ ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করছে, যেখানে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই সৈন্যদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পোল্যান্ড সরকারও এই সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে এবং তাদের নাগরিক ড্যামিয়ান সোবোল হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলকে পোল্যান্ডের তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিক জন চ্যাপম্যান, জেমস হেন্ডারসন এবং জেমস কিবির মৃত্যুর ঘটনায় তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত। ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার আগেই তারা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের গাড়িবহরের চলাচলের বিষয়টি সমন্বয় করেছিল এবং গাড়ির ছাদে সংস্থার লোগো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। সংস্থাটির মতে, এই হামলার কোনো অজুহাত বা যৌক্তিকতা নেই এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তটি প্রকৃত সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক ও অপমানজনক।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) অবশ্য দাবি করেছে যে, তারা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের হামাস যোদ্ধা হিসেবে ভুল করেছিল এবং ত্রাণবাহী বহরটি পূর্বনির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের কমান্ডারদের সিদ্ধান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং তিনজনকে তিরস্কার করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে গাজায় ত্রাণ সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানানোর অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সম্প্রতি ২০২৪ সালে পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রাজাব এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় প্রথমবারের মতো দায় স্বীকার করেছে। সেই ঘটনায়ও তারা ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে, পাশাপাশি ২০২৫ সালে ১৫ জন প্যারামেডিক নিহতের ঘটনায়ও তদন্ত চলছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলি সৈন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় রূপ নেয়।

