ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির আকাশসীমা সুরক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের ওপর জোর দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি জানান, রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। ইউক্রেনের কাছে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কেবল ‘প্যাট্রিয়ট’ ব্যবস্থারই রাশিয়ার অতি-উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার সক্ষমতা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনজুড়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে মস্কো। অত্যন্ত দ্রুতগতির এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সময়মতো ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শনিবার সতর্ক করে বলেছেন যে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলাগুলো রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের একটি ‘প্যান্ডোরা বক্স’ (নতুন বিপদ) খুলে দিয়েছে। তবে ইউক্রেনের মিত্রদের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’—যার নেতৃত্বে রয়েছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন—মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে সোমবার একটি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে কয়েক দফা সরাসরি আলোচনা হলেও বর্তমানে ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মনোনিবেশ করায় সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার জন্য কিয়েভ সফর করার সময়ই সেখানে দিনদুপুরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রাশিয়া। এই হামলায় শহরের পূর্ব উপকণ্ঠের বরিস্পিল জেলায় দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ অঞ্চলের কাছে দূরপাল্লার ড্রোন পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক এবং কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী ওডেসা অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ওডেসার গভর্নর ওলেগ কিপার জানিয়েছেন, একটি বাড়ি ও শস্যের গুদামে চালানো দীর্ঘস্থায়ী ও সমন্বিত হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারির অঞ্চল জাপোরিঝঝিয়াতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
অন্য দিকে, রাশিয়া এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন রুশ কর্মকর্তারা। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওজোন’-এর একটি গুদাম এবং একটি শিল্প কারখানা রয়েছে। ওজোন কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গুদামে চালানো হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করার অংশ হিসেবে ইউক্রেন ওজোনের চেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এ ড্রোন হামলা চালিয়েছিল; তবে ওজোনের ওপর এটিই প্রথম হামলা। এছাড়া, ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাসে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে অন্তত দুজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেভাস্তোপলের মস্কো-মনোনীত গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ। পাশাপাশি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার রুশ-নিযুক্ত গভর্নর লিওনিড পাসেচনিক।

