জাতিসংঘ শুক্রবার ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর একটি হালনাগাদ ডাটাবেজ প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বিশ্বের ১১টি দেশের মোট ২১৪টি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এই তালিকায় নতুন করে ৬১টি কোম্পানি যুক্ত করা হয়েছে এবং পাঁচটি কোম্পানিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুটি স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া কানাডা, ইসরায়েল ও পর্তুগালের একটি করে কোম্পানিকে তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এয়ারবিএনবি (Airbnb), বুকিং ডটকম (Booking.com), মটোরোলা সলিউশনস (Motorola Solutions) এবং ট্রিপ অ্যাডভাইজার (TripAdvisor)-এর মতো বড় ও পরিচিত কোম্পানিগুলো এই তালিকায় রয়ে গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদনটি কোম্পানিগুলোকে তাদের মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোম্পানিগুলোর উচিত যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা যাতে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে।
তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলো মূলত ইসরায়েলের হলেও, অন্যান্য কোম্পানিগুলো কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর।
২০২০ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল এমন কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করা, যারা অবৈধভাবে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করছে। নির্মাণ কাজ, নজরদারি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং কৃষিজমি ধ্বংসের মতো ১০টি নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে কোম্পানিগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রতি বছর এই ডাটাবেজ হালনাগাদ করার নিয়ম থাকলেও, এটি এখন পর্যন্ত মাত্র দুইবার, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালে সংশোধন করা হয়েছে। তবে এই তালিকা সম্পূর্ণ নয়। কেবল জুন ২০২৪ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এটি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৯৬টি কোম্পানির বিষয়ে তথ্য জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৩৮১টি কোম্পানি পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে দখলকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন। এই এলাকায় ১৫৬টি বসতি এবং ৩৬০টি বসতি ফাঁড়ি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এই বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে জাতিসংঘ এবং বারবার সতর্ক করেছে যে, এই কর্মকাণ্ড দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

