এক চন্দ্রহীন ও বৃষ্টিভেজা রাতে গির্জার মতো দেখতে একটি জরাজীর্ণ ভবন থেকে বের হয়ে পোলিশ সেনারা পাহাড়ি বনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মধ্য দিয়ে এই মহড়ার সূচনা হয়। পোল্যান্ডের বিশেষ বাহিনীর এই সদস্যরা এমন একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন, যেখানে শত্রু সীমানায় অনুপ্রবেশ এবং ড্রোন হামলার কৌশল রপ্ত করা হচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ এলিট ফোর্স 'গ্রিন বেরেট'-এর নকশা করা এই বিশেষ অনুশীলনে পোলিশ সেনারা অংশ নিচ্ছে।
ন্যাটোভুক্ত কোনো মিত্র দেশের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ এই প্রথম। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা মার্কিন গ্রিন বেরেটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, এখানে ঠিক সেগুলোরই অনুকরণ করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই কঠোর ও সংবেদনশীল সামরিক মহড়া সরাসরি দেখার বিরল সুযোগ পেয়েছে। মহড়াটি জার্মানির নুরেমবার্গ থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত যৌথ বহুজাতিক প্রস্তুতি কেন্দ্রে (জেএমআরসি হোহেনফেলস) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় ৩,০০০ বর্গকিলোমিটার (১,১০০ বর্গমাইল) বিস্তৃত পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় কয়েক দিন ধরে এই মহড়া চলবে।
জার্মানিতে এই মহড়া চলাকালীন, নুরেমবার্গ থেকে প্রায় এক ঘণ্টার গাড়ি চালানোর দূরত্বে দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত যৌথ বহুজাতিক প্রস্তুতি কেন্দ্র হোহেনফেলস-এর প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনাটি হলো পোলিশ বিশেষ বাহিনীকে প্রথমে হোহেনফেলস ঘাঁটিতে আকাশপথে অবতরণ করা মার্কিন ছত্রীসেনাদের (যারা এখানে শত্রুপক্ষ সেজেছে) নজর এড়িয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে উত্তরের গ্রাফেনউয়র শহরের দিকে যেতে হবে।
এর মাঝখানে রয়েছে জার্মানির বিভিন্ন খামার ও গ্রাম, ব্যক্তিগত ও সরকারি নজরদারি ক্যামেরা এবং ৪০,০০০-এরও বেশি জনসংখ্যার আমবার্গ শহর, যার সবগুলোই কেবল বাধা হিসেবে কাজ করে না, বরং ধরা পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি করে। ধরা পড়া এড়াতে পোলিশ সেনারা সামরিক পোশাক ছেড়ে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের ছদ্মবেশ ধারণ করতে হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া এক জ্যোষ্ঠ মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বলেন, "তাদের এমনভাবে মিশে যেতে হবে যেন সাধারণ মানুষও তাদের টের না পায়। কারণ সাধারণ মানুষ সন্দেহভাজন কাউকে দেখে পুলিশে খবর দিলে সামরিক বাহিনীর কাছে সেই তথ্য চলে যাবে এবং তাদের অবস্থান চিহ্নিত হয়ে যাবে। এটি রাশিয়ার পরিবেশের আদলে করা হচ্ছে এবং রাশিয়ায় আপনি সহজেই সবার নজরে পড়ে যাবেন।" এছাড়া মার্কিন বাহিনীও ড্রোন দিয়ে পোলিশ সেনাদের খুঁজবে। একবার ধরা পড়লে তাদের ওপর কাল্পনিক 'রুশ হামলা' চালানো হবে এবং সামরিক পুলিশ কুকুর নিয়ে তাদের তাড়া করবে। পূর্ববর্তী মহড়াগুলোতে মার্কিন বাহিনী শতাধিক ড্রোন ব্যবহার করেছিল। এই মহড়ায় সেনাদের "বন্দী বা নিহত" হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করা হয়।
এই মহড়া যখন চলছে, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা তুঙ্গে। চলতি সপ্তাহে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে ন্যাটো দেশগুলোতে হামলা না করার জন্য রাশিয়াকে সতর্ক করেছেন বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, পুতিন সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইলেও ন্যাটো দেশগুলোতে সাইবার হামলা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন।
can't find any English here: "অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক নীতিতে ড্রোন ও ন্যাটো সহযোগিতা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন এবং সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের একটি বিশেষ ড্রোন ইউনিট বন্ধ করে দিয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ইউক্রেনের ড্রোন যুদ্ধকৌশল নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে আগ্রহ বাড়ছে। গত মার্চ মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে সহায়তা করছেন। সম্প্রতি ইউরোপেও রহস্যময় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে জার্মানির সামরিক ঘাঁটি ও কার্গো বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

