প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে একটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত রবিবারের এই হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে সোমবার নিশ্চিত করেছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)।
সাউথকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সুপরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচলকারী একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নৌকাটি সক্রিয়ভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই অভিযানটি মাদক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে সাউথকমের দৃঢ় অবস্থানের একটি স্পষ্ট অনুস্মারক।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ঝাপসা সাদা-কালো ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নৌকা পানির ওপর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এটি কী ধরনের নৌকা তা মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি দীর্ঘ আধা-নিমজ্জিত নৌযান, যা সাধারণত 'নারকো সাব' বা মাদক সাবমেরিন নামে পরিচিত।
মার্কিন জেনারেল ফ্রান্সিস এল. ডনোভান সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা এই অঞ্চলের মাদক-সন্ত্রাসীদের ওপর পদ্ধতিগত চাপ সৃষ্টি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করা, নেতৃত্ব ভেঙে দেওয়া এবং কার্টেল বা মাদক চক্রের সন্ত্রাস নির্মূল করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে 'সাউদার্ন স্পিয়ার' নামের এই বিশেষ অভিযান শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধে নেমেছে ওয়াশিংটন। এরপর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যারিবীয় সাগরে এ ধরনের হামলায় ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি যা দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আক্রান্ত নৌযানগুলো আসলেই মাদক পাচারের সাথে জড়িত ছিল। সমালোচকেরা এই হামলার বৈধতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ওভারডোজের জন্য দায়ী ফেন্টানিল মূলত মেক্সিকো থেকে স্থলপথে পাচার হয়ে আসে, যা চীন ও ভারত থেকে আমদানিকৃত রাসায়নিক দিয়ে তৈরি করা হয়।
এর আগে মার্কিন আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের কাছে প্রথম হামলার 'অসম্পাদিত ভিডিও' প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রথম হামলার পর জীবিত বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠার পর এই দাবি তোলা হয়। কোনো কোনো আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, জীবিতদের ওপর দ্বিতীয়বার হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল কি না। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা তখনও লড়াইয়ের অবস্থায় থাকতে পারে, তাই দ্বিতীয়বার হামলা চালানো যৌক্তিক ছিল।
মে মাসে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক কার্যালয় জানিয়েছিল যে, হামলার ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া (সিক্স-ফেজ জয়েন্ট টার্গেটিং সাইকেল) অনুসরণ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এই পর্যালোচনা হামলার বৈধতা নিয়ে নয়, বরং প্রক্রিয়াগত নিয়ম অনুসরণের ওপর আলোকপাত করবে। এর আগে গত জুনে ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি নৌকায় চালানো মার্কিন হামলায় দুই জন নিহত এবং ছয় জন বেঁচে গিয়েছিলেন।

