ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বেশ কয়েকজন সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে এই হামলাকে 'আগ্রাসী' হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে 'আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রু' এই হামলা চালিয়েছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি এই হামলাকে একটি 'কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর জন্য সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হামলার আগে লারাক দ্বীপের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন বলে ফারস জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল যে, লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ওই দ্বীপে ইরান হরমুজ প্রণালীতে রকেট ও মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এক মন্তব্যে বলেছেন, 'ইরানকে অবহিত করা হয়েছে যে, কোনো জাহাজ বা নৌকা নতুন করে মাইন স্থাপন করলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে ধ্বংস করা হবে।' মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এলাকাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছিলেন যে, ওয়াশিংটনের অবরোধ ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ শনিবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্টের দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। গালিবফ বলেন, 'মিথ্যাবাদী, মিথ্যাবাদী, সব মিথ্যা।' তিনি বেসেন্টের এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেন যে, ওয়াশিংটন গত ১৪ দিনে বাজারে ১৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এনেছে।

