গত ৩০ আগস্ট মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে, যা জুলাই মাসের শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক পদক্ষেপ। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লারাক দ্বীপে থাকা দুটি রকেট ও মাইন লঞ্চার লক্ষ্য করে এই আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহিনীকে হরমুজ প্রণালীতে মাইন ও রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের মাইন স্থাপনের চেষ্টা প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, এই হামলায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, তবে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মহিবি এই হামলাকে একটি 'কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি 'কিং হুসেইন' এবং 'আল আজরাক' (মুয়াফফাক সালতি)-এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ইরানি মিডিয়ায় খবর পাওয়া গেছে। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি এআই-জেনারেটেড ভিডিও শেয়ার করে খর্গ দ্বীপে হামলার ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেন, তবে এই দ্বীপটিতে সরাসরি হামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট এই যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। জুলাই মাসের শেষের দিকে হামলার পর কিছু সময় পরিস্থিতি কিছুটা স্থবির থাকলেও ১৭ আগস্ট সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়। এর আগে ১৯ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প 'ইকোনমিক ডি-ডে' বা অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে চীনসহ অন্যান্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এদিকে, কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ত্রিতা পার্সি মন্তব্য করেছেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে উভয় পক্ষই কূটনীতির পথ থেকে সরে এসেছে। যুদ্ধের জনপ্রিয়তাও যুক্তরাষ্ট্রে হ্রাস পেয়েছে; ২৪ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী মাত্র ৩১ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যার নেপথ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমে যাওয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

