যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইউক্রেনের সাথে এমন একটি লাইসেন্সিং চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যা কিয়েভকে দেশীয়ভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে। বুধবার ফক্স নিউজের ব্রায়ান কিলমিডের রেডিও শোতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে রুবিও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও এর মাধ্যমে ইউক্রেনের তাৎক্ষণিক আকাশ প্রতিরক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কারখানা স্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
এর আগে জুলাই মাসে ওয়াশিংটন সফরের সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। সে সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, ইউক্রেনকে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে ওয়াশিংটনের অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত।
বর্তমানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় কিয়েভ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ বিমান হামলার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে। রুবিও ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্বজুড়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রুবিও শুধু ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেননি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবকেও দায়ী করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্য দেশগুলোকে সরবরাহের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিজেদের প্রতিরক্ষা মজুত নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে থাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রাপ্যতা এখন একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

