যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনিজুয়েলা একটি ঐতিহাসিক তেল চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, এই লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুদ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি সব আমেরিকানদের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ব্যক্তিগত ব্যবসার সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছাতে ভূমিকা রেখেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ করবে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ট্রাম্পের অনুমোদিত এক সামরিক অভিযানে আটক করা হয়। মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল রিজার্ভ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, ভেনিজুয়েলার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে। তবে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে দেশটিতে তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্প পুনরুদ্ধারে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৫ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, অতীতে ভেনিজুয়েলা কর্তৃক আমেরিকান তেল, সম্পদ এবং প্ল্যাটফর্ম একতরফাভাবে জব্দ ও বিক্রির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর আইনি অধিকার দাবি করেছেন। তার মতে, এই ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

