মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটির কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চির বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে ৮১ বছর বয়সী এই গণতন্ত্রপন্থী নেত্রীকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সু চি কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তার সাজা কমানো হয় এবং তাকে গৃহবন্দি হিসেবে রাখা হয়েছে।
সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সু চি সুস্থ আছেন বলে দাবি করা হলেও, এর সপক্ষে কখনো কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তার ছেলে কিম আরিস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার মায়ের 'প্রুফ অব লাইফ' বা জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একটি প্রতিনিধি দলকে তার সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার বছরের মধ্যে বাইরের কোনো পক্ষের সাথে এটিই সু চির প্রথম নিশ্চিত কোনো বৈঠক। এর আগে দুই বছর ছয় মাস আগে তিনি তার ছেলের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
ছবিতে সু চিকে আইসিআরসি প্রতিনিধি দলের প্রধান আরনোদ দ্য বাকে-এর সাথে আলাপ করতে দেখা গেছে। তবে বৈঠকে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু বা সু চির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আইসিআরসি এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি দলের এই সাক্ষাৎ বন্দিদের সাথে কাজ করার নির্ধারিত মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে সু চির সাথে একান্ত আলাপ করার সুযোগ ছিল।
এই ছবিগুলো পাওয়ার পর কিম আরিস স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছবিগুলো দেখে তার মায়ের শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো মনে হচ্ছে। কিম আরিস বিবিসি-কে বলেন, সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছে, তাই তিনি অনেক কিছুই এড়িয়ে চলেন, তবে এই ছবিগুলো দেখে তার মনে হয়েছে এবার তথ্যটি বিশ্বাসযোগ্য।
মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক সরকার প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের অধীনে দেশটিতে জান্তার শাসন বজায় থাকলেও, তারা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন মহল থেকে মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের ওপর সু চিকে মুক্তি দেওয়া, বিমান হামলা বন্ধ করা এবং গৃহযুদ্ধ অবসানের জন্য আলোচনার দাবি জানানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জান্তা এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও, সু চির সাথে আইসিআরসি-র এই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা হয়তো শেষোক্ত দাবিটির বিষয়ে নমনীয় হতে পারে।

