ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা রাশিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে চলে। ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আকাশসীমা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে এবং এটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। তিনি প্রতিটি এয়ারলাইন, বিমা কোম্পানি এবং যারা রাশিয়ার প্রধান বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করছেন, তাদের সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন যে রাশিয়ার আকাশপথ এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ।
এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন বেসামরিক বিমান চলাচলকে হুমকি হিসেবে দেখছে না এবং তারা নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি চায় না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন হামলার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে তা এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোর বিমানবন্দরগুলোতে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এই সতর্কতা বেশি প্রযোজ্য।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা সম্ভব নয় এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুতিন আরও জানান, রাশিয়ার অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও, তাদের মাত্র ১০ শতাংশ তেল শোধনাগার মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে।
বর্তমানে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার অনেক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রাশিয়ার নিজস্ব ‘কোভিয়র’ বা কার্পেট পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ড্রোন শনাক্ত হলে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়। ওসপ্রে ফ্লাইট সলিউশনস নামক একটি ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ড্রোন হামলার ঘটনা বেশি ঘটলেও, রাশিয়ার গভীরেও নিয়মিত হামলা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রবল। ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা এবং বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজনের ডিপোগুলোতে বারবার হামলা চালিয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অধিকাংশ পশ্চিমা এয়ারলাইন্স রাশিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে। তবে তুরস্ক, চীন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু এয়ারলাইন্স এখনো এই পথ ব্যবহার করে, কারণ এতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যাতায়াতের সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়। জেলেনস্কির এই নতুন সতর্কবার্তার পর বিমান চলাচল ও বিমা খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের আকাশসীমায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ১৭ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি এখনো স্মরণীয়, যাতে ২৯৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছিলেন। সম্প্রতি পুতিন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের কাছে রাশিয়ার আকাশসীমায় একটি বাণিজ্যিক বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, যেখানে ৩৮ জন নিহত হয়েছিলেন। রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিহত করার সময় ভুলবশত এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে মঙ্গলবার ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং ওডেসা, সুমি ও কিয়েভে বুধবারের হামলা অন্যতম। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ‘ব্যাপক’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

