বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক চেতনাকে দূর পরবাসে স্মরণ করতে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বসেছিল এক অনন্য সাংস্কৃতিক আসর। ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিসবেনের’ (বিএবি) উদ্যোগে শনিবার (১ আগস্ট) ম্যানলির ঐতিহ্যবাহী স্টার থিয়েটারে ‘রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ২০২৬’ উদযাপিত হয়।
৪৩ শিল্পীর সমন্বয়ে বিশেষ গীতি-আলেখ্য
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রকৃতি ও প্রেমকে উপজীব্য করে তৈরি একটি বিশেষ গীতি-আলেখ্য। যেখানে স্থানীয় ৪৩ জন বাঙালি শিল্পী একই মঞ্চে অংশ নিয়ে গান, কবিতা ও আবৃত্তির সমন্বয়ে পরিবেশনা উপহার দেন। আয়োজকরা জানান, প্রবাসের মাটিতে এত বিপুলসংখ্যক শিল্পীর অংশ নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
প্রিয়ঙ্কা বিশ্বাস ও অভিজিৎ সরকারের সুর এবং আবেগঘন সংগীত পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই ছিল এক স্নিগ্ধ রূপ। রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতির সুরের মূর্ছনায় প্রবাসী দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন।
৩ শতাধিক দর্শকের সমাগম
স্টার থিয়েটারের পূর্ণ মিলনায়তনে প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি বেশ কিছু অস্ট্রেলীয় দর্শকও উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৩০০ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরবাসের এক চেনা উৎসবে রূপ নেয়। গান ও কবিতার মাধ্যমে উপস্থিত প্রবাসীরা কিছু সময়ের জন্য হলেও যেন ফিরে যান নিজেদের চেনা সংস্কৃতি ও শিকড়ের কাছে।
নতুন প্রজন্মে নিজস্ব সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিসবেনের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশের ব্যস্ততার মাঝেও নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অসাম্প্রদায়িক দর্শন পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ভবিষ্যতেও অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা।
