ইন্দোনেশিয়ায় দুই মাসের ব্যবধানে আবারও ঘটে গেল বড় ধরনের ফেরি দুর্ঘটনা। রোববার (২ আগস্ট) দেশটির মাদুরা দ্বীপের উপকূলে ‘মুতিয়ারা সান্তোসা ২’ (Mutiara Sentosa 2) নামের একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং এখনও ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস)।
উদ্ধার অভিযান ও প্রাণহানি
স্থানীয় সুরাবায়া তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ২৭১ জন আরোহী ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর আশপাশের জাহাজের সহায়তায় এ পর্যন্ত ২২৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ফেরিটি পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া বন্দর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে উত্তর-পূর্ব জাভার কাছে অবস্থিত মাদুরা দ্বীপের উপকূলে পৌঁছালে এটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। তবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাণে বাঁচতে সাগরে লাফ প্রবাসীদের
বাসারনাস জানিয়েছে, ফেরিতে ভয়াবহ আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে অনেক যাত্রী সরাসরি সমুদ্রে লাফ দেন। নিকটবর্তী একটি জাহাজ দ্রুত এগিয়ে এসে সাঁতার কাটতে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনাস্থলের কাছে চারটি জাহাজ পৌঁছালেও ফেরিতে দাহ্য পদার্থ থাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কারণে সেগুলো সরাসরি ভিড়তে পারেনি। ফেরির ক্যাপ্টেন আগুন লাগার কথা জানিয়ে প্রধান কার্যালয়ে ফোন করেছিলেন, তবে এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুরাবায়া থেকে বড় আকারের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যা পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
দুই মাসে দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাশহুদ এক বিবৃতিতে জানান, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্রুত ও কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজ শেষ করতে আমরা সব সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখছি।”
উল্লেখ্য, গত মাসেই সুলাওয়েসির দক্ষিণের সেলায়ার দ্বীপের কাছে ৭০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে আরেকটি ফেরি ডুবে যায়। সেই দুর্ঘটনায় অন্তত ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং অনুসন্ধান অভিযান শেষ হওয়া পর্যন্ত ১৪ জন নিখোঁজ ছিলেন। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় দেশটির নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
