
দেশের সুনির্দিষ্ট সামুদ্রিক জলসীমা ও বিশাল নীল অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’র পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বড় ধরনের পদক্ষেপে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গভীর বঙ্গোপসাগরে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় সমুদ্রবিজ্ঞানীরা।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম অত্যাধুনিক সমুদ্রবিজ্ঞান (ওশেনোগ্রাফিক) গবেষণা জাহাজ।
২০২৮ সালে যাত্রা শুরু, গতি ঘণ্টায় ১৪ নটিক্যাল মাইল
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, বহুল প্রতীক্ষিত এই বিশেষায়িত গবেষণাতরীটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই জাহাজটির সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৪ নটিক্যাল মাইল। এর ফলে সমুদ্রের প্রবল প্রতিকূল আবহাওয়ায় গভীর পানিতে অবস্থান করে নির্বিঘ্নে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালাতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।
ডিঙি নৌকা থেকে বিশ্বমানের গবেষণাতরী
বর্তমানে দেশে বিশ্বমানের গবেষণা জাহাজের সুযোগ না থাকায় উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রের তথ্য সংগ্রহের কাজে বিজ্ঞানীদের অনেকাংশেই কাঠের তৈরি ছোট মাছ ধরার নৌকা বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে একদিকে যেমন জীবনের ঝুঁকি থাকে, অন্যদিকে আধুনিক আধুনিক সরঞ্জাম না থাকায় সমুদ্রের গভীর স্তরের সুনির্দিষ্ট ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হতো না।
প্রস্তাবিত জাহাজটি নির্মিত হলে এই সীমাবদ্ধতার চিরতরে অবসান ঘটবে। মাছ ধরার ট্রলারের জায়গায় গবেষকেরা পাবেন সব ধরনের অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত নিজস্ব ভাসমান ল্যাবরেটরি।
‘ব্লু ইকোনমি’র দুয়ার উন্মোচন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ, মূল্যবান খনিজ, মৎস্যসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব মূল্যায়নে এটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সুনীল অর্থনীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সমুদ্রবিজ্ঞান চর্চার যে অভাব ছিল, নতুন এই জাহাজ তৈরির উদ্যোগ তা বহুলাংশে দূর করবে।
