
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো পুনরায় সচল করতে এবার বেসরকারি খাতে ওয়াটার বাস চালুর বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক নীতি নির্ধারণী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের আগ্রহী ও সক্ষম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
পর্যটন ও যাত্রীবান্ধব সেবায় জোর
সরকার প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোকে কেবল সাধারণ যাত্রী পারাপারের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনা হিসেবেও কাজে লাগাতে চায় সরকার।
অতীতে ওয়াটার বাস চালুর ক্ষেত্রে যেসকল কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠে এবার টেকসই ও আধুনিক যাত্রীবান্ধব সেবা চালু করাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রধান লক্ষ্য।
পরিবেশ রক্ষা ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার তাগিদ
সভায় ওয়াটার বাস চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সার্বিক নদী ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- দূষণ রোধ: ঢাকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।
- ড্রেনেজ ব্যবস্থা: নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিক উন্নয়ন।
- নাব্যতা বৃদ্ধি: নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য সংকট দূর করা।
- তীরবর্তী পরিবেশ: নদীতীরের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা।
আগামী ২ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রূপরেখা
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। অতীতে সরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালুর কিছু ব্যর্থ অভিজ্ঞতা থাকায়, এবার সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে যাতে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে সফল ও লাভজনক করা সম্ভব হয়।
