দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কাউন্টি ক্লাব মিডলসেক্স ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির অধিনায়ক লেউস ডু প্লয়। চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাকি থাকা সত্ত্বেও চলতি মৌসুম শেষেই তিনি ক্লাব ছাড়ছেন। নিজের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ডু প্লয় তাঁর স্থানীয় খেলোয়াড়ের (লোকাল স্ট্যাটাস) মর্যাদা ত্যাগ করছেন, যার অর্থ ভবিষ্যতে মিডলসেক্সে খেলতে হলে তাঁকে কেবল বিদেশি বা ‘ওভারসিজ’ খেলোয়াড় হিসেবেই দলে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। মিডলসেক্স কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তাঁর ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মিডলসেক্সের ক্রিকেট ডিরেক্টর অ্যালান কোলম্যান ডু প্লয়ের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হতাশ হলেও তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন জানিয়েছেন। কোলম্যান বলেন, লেউস অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার ইচ্ছার কথা সে সবসময়ই স্পষ্ট করে জানিয়েছে। সে মনে করছে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য এটাই সেরা সিদ্ধান্ত এবং আমরা তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
কোলম্যান আরও যোগ করেন, লেউস মিডলসেক্সের জার্সিতে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০-এর বেশি গড় থাকা ডু প্লয় ক্লাবের অন্যতম সেরা পারফর্মার এবং ভবিষ্যতে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর জন্য ক্লাবের দরজা সবসময় খোলা থাকবে।
স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগ পাওয়ায় ডু প্লয় ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ওয়েলশ ফায়ার, সাউদার্ন ব্রেভ এবং ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন। চলতি গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টারকে শিরোপা জেতাতেও অবদান রাখেন তিনি। তবে এই মর্যাদার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ (SA20) টুর্নামেন্টে তাঁকে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হতো। এখন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ফিরে আসায় ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য জোহানেসবার্গ সুপার কিংস তাঁকে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে ধরে রাখতে পারবে।
বিদায়লগ্নে ডু প্লয় তাঁর আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, মিডলসেক্সের হয়ে খেলা এবং বিশেষ করে অধিনায়কত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় ছিল। ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তটি মোটেও সহজ ছিল না এবং এটি আমি হালকাভাবে নেইনি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা হাতছাড়া করতে চাইনি। নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার আজীবনের স্বপ্ন। মিডলসেক্সের সতীর্থ, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।

