কিয়েভের কাছে অস্ত্র প্রদর্শনীতে রুশ হামলায় নিহত ১০

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অদূরে একটি অস্ত্র প্রদর্শনীতে রাশিয়ার চালানো হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় আরও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাটি সামরিক প্রদর্শনীগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কো জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মার্শাল ল বা সামরিক আইনের অধীনে এই ধরনের অনুষ্ঠানের ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না এবং আয়োজনের সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এএফপির একজন প্রতিবেদক জানান, শুটিং রেঞ্জের আঙিনায় অন্তত পাঁচটি মরদেহ কালো কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে প্রমোশনাল তাঁবুগুলো তখনও দাঁড়িয়ে ছিল, যার নিচে ড্রোন প্রদর্শন করা হচ্ছিল। একটি স্ক্রিনে তখনো অস্ত্র কোম্পানির প্রচারণামূলক ভিডিও চলছিল। একটি গাড়ির পেছনে রক্তমাখা মুখে এক মৃত ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যার চারপাশে মানুষ জড়ো হয়েছিল।

রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনীয় ও বিদেশি প্রযুক্তির মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন প্রদর্শনী লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার দাবি, প্রদর্শনীতে থাকা ড্রোনগুলোর মধ্যে এমন মডেলও ছিল যা রাশিয়ার ভূখণ্ডে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধে ইউক্রেনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সামরিক অনুষ্ঠান বরাবরই রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।

এই হামলা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই আয়োজনের দুর্বল ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা সের্গেই বেসক্রেস্তভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েও আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা না রাখায় আয়োজকদের সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিরক্ষা গ্রুপ ‘ব্রেভ১’-এর প্রধান আন্দ্রি গ্রিতসিউকের মতে, প্রতিরক্ষা শিল্পের সাথে জড়িত প্রত্যেকেরই জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কর্মকর্তা আল্লা লাখমানিউক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই অনুষ্ঠানের জন্য পৌরসভা থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকার এত কাছে এমন আয়োজন করা নিয়ে সবাই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থান নির্বাচন করা জরুরি।

হামলায় শুটিং রেঞ্জের পাশের ঘরবাড়িগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একটি গাছ ধ্বংস হয়ে এর ধ্বংসাবশেষ ও পোড়া আপেল চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা নাতালিয়া পেরেভালোভার ঘরের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জানালাগুলো ভেঙে গেছে। তবে নিজের বেঁচে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, হামলার সময় তার নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিল না, যার জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।