গাজায় শান্তি প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ এগিয়ে নিতে হলে ইসরায়েলকে তাদের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড অব পিস-এর গাজা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ। সোমবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় হিলি ফোরামে তিনি এ কথা বলেন। ম্লাদেনভ জানান, গত এক বছরে শান্তি প্রক্রিয়ায় কিছু অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতির চেয়ে এখনো অনেক দূরে রয়েছে অঞ্চলটি।
তিনি জানান, ইসরায়েলের সাথে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্মত সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো। ম্লাদেনভ বলেন, এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং গাজার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।
হামাসের সাথে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে গত সাত মাস ধরে আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই আলোচনাকে অত্যন্ত কঠিন ও নিবিড় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি তুরস্ক, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনের প্রশংসা করেন।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ম্লাদেনভ বলেন, এখানকার মানুষ ভয়াবহ অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আরেকটি শীতকাল পার করার মতো অবস্থায় নেই। তার মতে, পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য বোর্ড অব পিস-এর রোডম্যাপ বাস্তবায়নই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত উপায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই রোডম্যাপ এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা, অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর তিনি জোর দেন।
ইসরায়েলের নতুন সরকার বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ম্লাদেনভ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে, তবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় পক্ষেরই দীর্ঘমেয়াদী সহাবস্থানের পথে হাঁটা জরুরি।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত জানুয়ারি মাসে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠিত হয়। এই সংস্থার ওপর গাজার শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো তদারকির দায়িত্ব রয়েছে। গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত তাদের রোডম্যাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

